সেরা ইনডোর গাছ, যেগুলো খুব সহজে ঘরে রাখা যায়

সেরা ইনডোর গাছ

আজকালকার এই পরিবেশ দূষণের যুগে সবারই বেশ কিছু বায়ু শোধনকারি ইনডোর গাছ ঘরে রাখা উচিত। এই গাছগুলো আমাদের পরম উপকারি বন্ধু। পৃথিবীতে ইনডোর গাছ কম নেই। তার মধ্যে বেশ কিছু গাছ আমাদের দেশের জলহাওয়ায় সুন্দরভাবে বেড়ে ওঠে। এগুলো ঘরে রাখার জন্য বিরাট কিছু পরিচর্যারও দরকার হয় না। এরকম সেরা ৮টা ইনডোর গাছের নাম আজ আমরা আলোচনা করবো।

ইনডোর গাছের উপকারিতা

মূল আলোচনায় যাওয়ার আগে ইনডোর প্ল্যান্ট বা ঘরোয়া গাছের উপকারিতা নিয়ে দুচার কথা বলে নিই। এই গাছগুলো কার্বন ডাইঅক্সাইড তো শোষণ করেই, তা ছাড়াও শুষে নেয় ঘরের বাতাসে জমে ওঠা নানান ক্ষতিকর বাষ্প, যাদের পোশাকি নাম উদ্বায়ী জৈব যৌগ (Volatile Organic Compound)। যেমন, বেনজিন, জাইলিন, অ্যাসিটোন, ফর্ম্যাললডিহাইড, ইত্যাদি। পাশাপাশি এগুলো প্রচুর পরিমানে অক্সিজেন ছেড়ে ঘরের বাতাসকে পরিশুদ্ধ রাখে। ইনডোর গাছ ঘরের শোভা বাড়াতেও দারুণ কাজে লাগে। সব দিক থেকে এই গাছগুলো চমৎকার। [আরো পড়ুন ➤ ইনডোর প্ল্যান্ট: বাহারি ঘরোয়া গাছে ঘরের দূষণ কমান] এবার আমরা সেরা কয়েকটা ইনডোর গাছের নাম আলোচনা করবো।

ইনডোর গাছের সেরা আট


একটি ভালো বায়ুশোধক ইনডোর গাছের নাম স্নেক প্ল্য়ান্ট।

● স্নেক প্ল্যান্ট (Sansevieria trifasciata): বহুবর্ষজীবী গাছ। সব রকম বায়ুশোধক ইনডোর গাছের মধ্যে স্নেক প্ল্যান্টের নাম একেবারে প্রথম দিকেই নেওয়া যায়। আমাদের দেশের আবহাওয়ায় দিব্যি বেঁচে থাকে এই গাছ। এর জন্য বেশি যত্নআত্তির দরকার হয় না। সহ্যশক্তি বেশি থাকায় এই গাছ নানা রকম পরিবেশে চটপট মানিয়ে নিতে পারে।


খুব সহজে ঘরে রাখা যায় এমন একটি ইনডোর গাছের নাম মানি প্ল্য়ান্ট।

● মানি প্ল্যান্ট (Epipremnum aureum): লতানে চিরসবুজ গাছ, অনেক দিন বাঁচে। এ গাছ দেখতে যেমন সুদৃশ্য, বায়ু পরিশোধনেও তেমনই দক্ষ। মাটি ছাড়া শুধুমাত্র জলেও বেঁচে থাকতে পারে এই গাছ। এ গাছের দেখভালের ঝক্কি একেবারেই কম। এতো কম যে মজা করে বলা হয়, বেশি যত্ন নিলে মানি প্ল্যান্ট বাঁচে না।


একটি চমৎকার ঔষধি ইনডোর গাছের নাম অ্যালোভেরা।

● অ্যালোভেরা (Aloe Vera): সপুষ্পক গাছ, বহুবর্ষজীবী। বাংলায় এ গাছের নাম ঘৃতকুমারী। ইনডোর গাছ হিসেবে অ্যালোভেরা শুধু যে বায়ু শোধনে কাজে লাগে তাই নয়, এর দুর্দান্ত ঔষধি গুণ আছে। বিশেষ করে ত্বকের যত্নে ও রূপচর্চায় এর বহুল ব্যবহার হয়। অত্যন্ত উপকারি গাছ।


একটি রঙবাহারি ইনডোর গাছের নাম ক্রোটন।

● ক্রোটন (Codiaeum variegatum): গুল্ম জাতীয় চিরসবুজ গাছ, বহুবর্ষজীবী। সপুষ্পক হলেও এ গাছের আসল আকর্ষণ পাতা। পাতাগুলো সাধারণত লম্বাচওড়া হয়। গাছের ভ্যারাইটি অনুযায়ি পাতার ওপর থাকে হালকা সবুজ, হলুদ, কমলা, লাল, পার্পেল, গোলাপি, মেরুন ইত্যাদি নানান রঙের খেলা। রঙিন বাহারি পাতার এই গাছ সকলের মন জয় করে নেয়।


● স্পাইডার প্ল্যান্ট (Chlorophytum comosum): এই গাছের পাতাগুলো দেখতে অনেকটা ঘাসের মতো। লম্বা গড়নের পাতাগুলোয় সবুজের ওপর থাকে সাদাটে বা হলদেটে টানা দাগ। বিশেষ কোনো পরিচর্যা ছাড়াই এই গাছ দ্রুত বেড়ে ওঠে। ঝুলন্ত টবে স্পাইডার প্ল্যান্ট রাখলে দারুণ সুন্দর দেখায়।


● এরিকা পাম (Dypsis lutescens): বহুবর্ষজীবী পাম জাতীয় গাছ। একরাশ সবুজ পাতা এই ইনডোর গাছের সৌন্দর্যের উৎস। এর আরেক নাম বাটারফ্লাই পাম। এরিকা পাম সাধারণত ৩ থেকে ৮ ফুট উঁচু হয়।


● অ্যাগ্লোনিমা (Aglaonema Commutatum): কষ্টসহিষ্ণু ইনডোর গাছ, বাঁচেও অনেক দিন। এ গাছের আরেক নাম চাইনিজ এভারগ্রিন। অ্যাগ্লোনিমার গৌরব এর বাহারি পাতা। এ গাছের বেশ কিছু ভ্যারাইটি আছে। ভ্যারাইটি অনুযায়ী সবুজ পাতার ওপর সাদা, রূপালি বা লাল নকশি দাগ থাকে। খুব আকর্ষণীয় গাছ।


● পিসলিলি (Spathiphyllum): সপুষ্পক চিরসবুজ গাছ। দৃষ্টিনন্দন সাদা ফুলের জন্য এই ইনডোর গাছকে শান্তির দ্যোতক রূপে গণ্য করা হয়। এ কারণেই এই গাছের নাম পিস লিলি। এ গাছ অল্প পরিচর্যাতেই বেড়ে ওঠে। এর জন্য না লাগে প্রখর সূর্যের আলো, না লাগে বেশি জল, না লাগে দামি সার। সারা বিশ্বে এই গাছ জনপ্রিয়।


সাবধানতা

এ পর্যন্ত যে যে ইনডোর গাছের নাম উল্লেখ করলাম, সবগুলোই দেখতে অপূর্ব সুন্দর। এগুলো ঘর সাজাতে দারুণ কাজে লাগে। তাছাড়া এই গাছগুলো ঘরের পরিবেশ উন্নত করে। এই গাছগুলোর একটা বড়ো সুবিধা, এগুলোতে রোগপোকার আক্রমণ হয় না বললেই চলে। এগুলোর জন্য বেশি সময় দেবারও দরকার পড়ে না। তবে ঘরে এই গাছগুলো রাখলে একটা ব্যাপারে একটু সবাধান থাকতে হবে। এগুলোর পাতা বা কান্ড কেউ ভুল করে খেয়ে ফেললে সমস্যা হতে পারে। তাই এই গাছগুলোকে ছোটো বাচ্চা বা পোষ্য প্রাণীদের নাগালের বাইরে রাখাই ভালো।

শেষের কথা

সেরা কয়েকটা ইনডোর গাছের নাম তো জানলেন। এখন প্রশ্ন হলো, এই গাছগুলো কোথায় পাবেন? এগুলো আপনি বন্ধুবান্ধব বা পাড়াপড়শির কাছ থেকে জোগাড় করতে পারেন। নয়তো যে কোনো স্থানীয় নার্সারি থেকে এগুলো কিনতে পারেন। আজকাল অনলাইনেও রকমারি গাছ খুব সহজে কিনে নেওয়া যায়। ওপরের দিকে অনলাইন নার্সারির লিংক দেওয়া আছে (nurserylive)। ওখান থেকেও কিনতে পারেন। তবে গাছ কেনার সময়— যে গাছই কিনুন, আর যেখান থেকেই কিনুন— গাছের সব কিছু খুঁটিয়ে দেখে বা বুঝে নিয়ে তারপর কিনতে হবে। এই কথাটা ভুলে গেলে চলবে না। [ছবিগুলি ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত]